৯ আসামীর দু’জন পলাতক, ৭ জন জামিনে আলীনগরে আ’লীগ নেতা মাতাব উদ্দিন হত্যা মামলার রায় বুধবার

বাংলাদেশ সিলেট

আলীনগর দর্পণ ডেস্ক : বিয়ানীবাজারের আলীনগরে আওয়ামী লীগ নেতা মাতাব উদ্দিন হত্যা মামলার রায়ের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী বুধবার সিলেটের অতিরিক্ত দায়রা জজ ৩য় আদালতে ঘটনার প্রায় সাড়ে ৪ বছর পর চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। মামলার ৯ আসামীর মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় আসামী পলাতক এবং অপর ৭ আসামী জামিনে রয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

সিলেট জেলা ও জজ দায়রা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এডভোকেট নিজাম উদ্দিন জানান, গুরুত্বপূর্ণ মামলা হিসেবে আদালতে এর কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। বিজ্ঞ আদালতের কাছে আমরা আসামীদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করছি।
আলোচিত এ মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে জানা গেছে, ভূমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ২০১৬ সালের ২২ জুন সকাল ১১ টায় উপজেলার পূর্ব আলীনগর গ্রামের রাস্তার উপর প্রতিপক্ষের অতর্কিত হামলায় ঘটনাস্থলে খুন হন দিনমজুর মাতাব উদ্দিন। এ সময় আর্তচিৎকার শুনে আহত মাতাবকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে গুরুতর আহত হন আসাদ, সালমান ও রেহান। মর্মান্তিক এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জড়ো হয়ে অভিযুক্তদের বাড়ি ঘেরাও করে রাখেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হত্যার সাথে জড়িত সন্দেহে ৮ জনকে আটক করে।
এদিকে, আ’লীগ নেতা মাতাব উদ্দিন হত্যাকান্ডের পরদিন তার ভাতিজা আলী আকবর বাবুল বাদী হয়ে বিয়ানীবাজার থানায় ৮ জনকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ১৫, ধারা ১৪৩, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৬, ৩০২, ১১৪, ৩৪ দ-বিধি।
এ মামলায় আসামীরা হলেন, পূর্ব আলীনগর গ্রামের আব্দুল ফাত্তাহ (৫৫), রুবেল হোসেন (২২), আব্দুল মুমিত সুমন (৩০), রাজন আহমদ (২৮), লিমন আহমদ (৩২), বাবুল আহমদ (৫০), শাহিন আহমদ (৩৫) ও চন্দগ্রাম পাতন গ্রামের মঞ্জুর আহমদ (২৬)। পুলিশ ঘটনার দিন ৭ নং আসামী শাহিন আহমদ ব্যতীত এজাহারভুক্ত অপর ৭ জন এবং এজাহার বহির্ভূত আলীনগর গ্রামের রায়হান আহমদ চৌধুরীসহ (৩৮) মোট ৮ জনকে মাতাব উদ্দিন হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করে।
পরে আদালতের অনুমতিতে এ মামলার এক থেকে ৩নং আসামী আব্দুল ফাত্তাহ, রুবেল হোসেন ও আব্দুল মুমিত সুমনকে একদিনের রিমান্ড এনে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন বিয়ানীবাজার থানার তৎকালিন এসআই দেবাশীষ শর্ম্মা।

এদিকে, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা মাতাব উদ্দিন হত্যার এক মাস পার হওয়ার আগেই পুলিশ ঐ বছরের ১৭ জুলাই চাঞ্চল্যকর এ মামলা সিআইডির কাছে হস্তান্তর করে। সিআইডি’র সিলেট জোনের এসআই মো. আবুল কালাম ২৮ জুলাই মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেন। দায়িত্ব পেয়ে আদালতের নির্দেশে তিনি এজাহারভুক্ত ১-৫ ও ৮নং আসামীসহ ৬ জনকে এক দিনের পুলিশ রিমা-ে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সিআইডি ৪ মাস তদন্ত শেষে একই বছরের ১০ নভেম্বর এজাহারভুক্ত ৮ জন ও ঘটনার দিন এজাহার বর্হিভূত আটক রায়হান আহমদ চৌধুরীসহ ৯ জনকে অভিযুক্ত করে একই বছরের ১৭ নভেম্বর সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা সিলেটের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আমলী আদালত নং-৪) আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্র নং-১৫৯, ধারা ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯, ৩২৩, ৩২৪, ৩০২, ১১৪ পেনাল কোড।

স্থানীয় সূত্রমতে, আলীনগর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক মাতাব উদ্দিন (৪৫) হত্যার দীর্ঘদিন পর রায় শোনার অপেক্ষায় রয়েছেন সরকারি দল আওয়ামী লীগের স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং এলাকাবাসী। নিহতের একমাত্র কন্যা সুমাইয়া বেগম তার বাবার হত্যাকারিদের ফাঁসি চেয়ে প্রতিনিয়ত আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছে। সে ঢাকা উত্তর মোহাম্মদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পাশাপাশি নিহতের স্ত্রী হেলন বেগমও একই আশায় বুক বেঁধে রয়েছেন। মামলার বাদি আলী আকবর বাবুল আসামীদের মৃত্যুদণ্ড কামনা করেছেন। এ মামলার সকল আসামী দীর্ঘদিন জেল হাজতে ছিলেন। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের নির্দেশে তারা জামিনে মুক্ত হন।
বাদিপক্ষের আইনজীবী গোলাম ইয়াহইয়া চৌধুরী সুহেল গতকাল জানান, আসামীরা প্রকাশ্য দিবালোকে মাতাব উদ্দিনকে নিষ্ঠুর ও জঘন্যতমভাবে হত্যা করেছে। রায়ে বিজ্ঞ আদালত আসামীদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করলে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

উল্লেখ্য, আলোচিত এই হত্যা মামলার রায় গত ১১ সেপ্টেম্বর ও ২৫ অক্টোবর পরপর নির্ধারিত থাকলেও পরবর্তীতে তা পেছানো হয়। এরপর নতুন করে আগামী ১১ নভেম্বর বুধবার ধার্য্য করা হয়েছে।

(সিলেটের ডাক)

 

78

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *