সিলেটে পরিবহন শ্রমিকদের আন্দোলন, একজন বীর মুক্তিযুদ্ধার বিপক্ষে ষড়যন্ত্র

Uncategorized

 

কবি স্বপন মুসলমান : সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে গত ২’রা জুন সংঘটিত নজিরবিহীন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অনুসন্ধানী তদন্ত করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। গত ২’রা জুন সিলেট জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের এক পক্ষ জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এবং বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি, বীর মুক্তিযুদ্ধা জনাব সেলিম আহমদ ফলিকের নামে জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের ২ কুটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে বিক্ষোভ পরবর্তী সহিংসতায় জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সেলিম আহমদ ফলিকের নিয়ন্ত্রণাধীন এনা বাসের কেন্দ্রীয় কাউন্টারে হামলা চালিয়ে শতো-শতো গাড়ি ভাংচুর করে এবং তাদের হাতে প্রায় ৫০ এর উপর সাধারণ শ্রমিক আহত হন।

বিভিন্ন অনলাইন মিডিয়ার লাইভ সম্প্রচারের জন্যে হামলার একটা ভিডিও এই প্রতিবেদকের হাতে আসে, সেখানে দেখা যায় হেলমেট, মাস্কের ভিতর নিজেকে আড়াল করে একদল সুসজ্জিত বাহিনী এনার কাউন্টারে হামলা করে যাদের দেখে মোটেও সাধারণ শ্রমিক মনে হয়না। এই হামলার ব্যাপারে তদন্ত করতে গিয়ে এই প্রতিবেদকের আলাপ হয় সিলেট জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সহ সভাপতি জনাব আব্দুল মান্নানের সাথে, তিনি বলেন সিলেট জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের ফান্ডের ৫৯ লাখ টাকা সভাপতি জনাব ফলিক আহমদের কাছে গচ্ছিত আছে, যা অনাদায়ী মনে করে সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করে,যার ধরুন সভাপতি জনাব ফলিক সাহেব গত ৩১’শে মে ২৪ লাখ টাকা পরিশোধ করেন এবং বাকি টাকার তিনটি চেক দেন যার মাধ্যমে যথাক্রমে ২৫, ২৭ ও ৩০’শে জুন টাকা উত্তোলন করা যাবে।

শুনে এই প্রতিবেদক আব্দুল মান্নান সাহেবকে প্রশ্ন করেন টাকা পয়সার হিসাব তো থাকে কোষাধ্যক্ষের কাছে, আর টাকা রাখার জন্যে শ্রমিক ইউনিয়নের কি কোনো ব্যাংক একাউন্ট নেই। আব্দুল মান্নান বলেন ব্যাংক একাউন্ট থাকবে না কেন, প্রতিবেদক পাল্টা প্রশ্ন করেন তাহলে যে বল্লেন ৫৯ লাখ টাকা সভাপতি জনাব ফলিক মিয়ার কাছে রাখা। তখন আব্দুল মান্নান সাহেব বলেন আসলে আমাদের শ্রমিক ইউনিয়নের একটি সমিতি আছে, সেই সমিতি হতে সভাপতি সাহেব ১৬ লাখ টাক ঋণ হিসাবে গ্রহণ করেন, এবং বাকি টাকাগুলো মূলত শ্রমিক ইউনিয়নের নামে কেনা ৫ টি বাস যা সিলেটের বিভিন্ন লাইনে রানিং ছিলো কিন্তু ক্রমাগত লোকসানের জন্যে শ্রমিক ফেডারেশন তা বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয় এবং সভাপতি তা ৪৫ লাখ টাকায় তা কিনে নেন। যা মিলে সর্বসমেত ৫৯ লাখ টাকায় দাঁড়ায়। আপনার কথা সত্যি হলেতো ঘটনা ৩১’শে মে মিটমাট হয়ে যাওয়ার কথা তাহলে ২’রা জুন আবার ২ কুটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে আপনা কেনো এমন বর্বর হামলা চালালেন এই প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি আন্দোলনকারী অংশের নেতা সাবেক সহসভাপতি আব্দুল মান্নান।

ঘটনার অনুসন্ধানে জানা যায় জনাব সেলিম আহমদ ফলিক খুবই শ্রমিক বান্ধব নেতা,কোথাও পরিবহন শ্রমিক এক্সিডেন্ট করলে বুক চিতিয়ে তাকে রক্ষা করেন জনাব ফলিক মিয়া, শ্রমিক মামলা খেলে অথবা লাইসেন্স না থাকার জন্যে জরিমানা গুনলে সব কিছু শ্রমিকের হয়ে একাই মোকাবিলা করেন জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জনাব সেলিম আহমদ ফলিক, যে কারণে তিনিও শ্রমিকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। যে জনপ্রিয়তার কল্যাণে তিনি সিলেট জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হিসাবে পাঁচ-পাঁচবারের মতো শ্রমিকদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন।

বিগত দিনে বহিরাগত সন্ত্রাসী এক গোষ্ঠী সিলেট বাস টার্মিনাল দখল নিতে চাইলে ঐক্যবদ্ধ শ্রমিকদের প্রতিরোধে তারা পালিয়ে যায়। কিন্তু পালিয়ে গিয়ে তারা থেমে যায়নি, তারা তাদের নীল নকশা বাস্তবায়ন করতে শ্রমিকদের মধ্যে ফাটল ধরাতে কিছু শ্রমিক নেতাদের কিনে নেয়, যার প্রমাণ ২’রা জুনে এনা পরিবহনের কাউন্টারে হামলা, শ্রমিক বর্জিত বহিরাগত হেলমেট বাহিনীর হামলায় দ্বিধাবিভক্ত শ্রমিকরা প্রতিরোধ গড়ার প্রয়োজন মনে করেনি।

শ্রমিকদের ব্যাপার শ্রমিকরা ভালো বুঝবে, আমরা যা বুঝি, সিলেট জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সবচেয়ে বড়ো সম্পদ ছিলো একতা। পাখি যেমন তার ডানার নিচে শাবকদের আগলে রাখে ঠিক তেমনি সেলিম আহমদ ফলিক তার নেতৃত্বে শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ আগলে রেখেছিলেন, যার ধারাবাহিকতায় সিলেট জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের কোনো শ্রমিকের গায়ে কেউ হাত উঠাতে পারেনি,অথবা বহিরাগত কেউ কোনোদিন বাসটার্মিনাল দখল অথবা বাস টার্মিনালে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাতে পারেনি, আজ গুটিকয়েক অসাধু নেতার চরিত্র হননের কারণে শ্রমিকের ঐক্যবদ্ধতা ভূলুণ্ঠিত যার ধরুন জাতির শ্রেষ্ট সন্তান বীর মুক্তিযুদ্ধা সেলিম আহমদ ফলিকের নিয়ন্ত্রণাধীন এনা পরিবহনের কাউন্টারে বর্বর হামলা।

সম্মানিত পরিবহন শ্রমিক আপনাদের অনক্যের সুযোগে সন্ত্রাসীরা আজ হামলা করেছে এনার কাউন্টারে কাল আপনার পালা, আজ ভেঙেছে সভাপতির বাস কাল ভাঙবে আপনারটা, এই শেষ নয় এই ঐক্যবদ্ধতা যে কতটুকু প্রয়োজন তা অনুভব করবেন যেদিন আপনাদের কথায় কথায় অপদস্ত করা হবে, স্টিয়ারিং হতে গলা ধাক্কা দিয়ে নামিয়ে দিবে, সেদিন বুঝবেন আপনাদের ঐক্যবদ্ধতার প্রয়োজনীয়তা। তাই বিক্রি খাওয়া নেতাদের কথায় বিভ্রান্ত না হয়ে এখনও সময় আছে আপনারা ঐক্যবদ্ধ হোন। আবার জেগে উঠেন মজদুরে বিক্ষুব্ধ ঐক্যবদ্ধতায় এই শুভ কামনায়।

25

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *