আল্লামা শায়খ জিয়া উদ্দীন জাতির এক আলোকবর্তিকা: তৈয়্যিবুর রহমান চৌধুরী

Uncategorized

আল্লামা শায়খ জিয়া উদ্দীন জাতির এক আলোকবর্তিকা

…তৈয়্যিবুর রহমান চৌধুরী

নাযিম সাহেব হুজুর। এক নামেই যার পরিচয়। শুধু সিলেটে নয় গোটাদেশের আলেম সমাজের কাছে। ছোটবেলা থেকেই অাঙ্গুরা মুহাম্মদপুর মাদরাসার নাম শুনেছি। উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ার সময় তার প্রতি অসক্তি বেড়ে যায়। যদিও আমার সেখানে পড়ার সুযোগ হয়নি। কিন্তু কেন জানি একটি টান ও অাকর্ষন সবমসময় কাজ করতো। কারণ প্রতিষ্টানের সফল কারিগর ছিলেন নাযিম সাহেব হুজুর। তাকে একনজর দেখার উদগ্র বাসনা দিনদিন বেড়েই চলছিল। দরগাহ মাদরাসায় অধ্যায়নরত অবস্থায় সেই কাংখিত সুযোগ এসে যায়। সিলেট জেলা জমিয়তের একটি প্রুগ্রামে তার স্বান্নিধ্যে যাবার সুযোগ হয়। সম্ভবত সময়টি ৯৭ সাল হবে। সেই থেকে যতবার তার সাথে সাক্ষাত হয়েছে ততবারই তার প্রতি শ্রদ্ধা ও অাকৃষ্টতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ছাত্র জমিয়তের দায়িত্বে থাকাকালিন অনেকবার তার নিকটে হাজির হয়েছি। কিন্তু বারবার তার সুমধুর অাচরনে মুগ্ধ হয়েছি। তার চাহনি, কথা বলার ভঙ্গি সবকিছুতেই যেন একটা সম্মোহনী শক্তি কাজ করে। সত্যিই তিনি একজন সফল মানুষ গড়ার কারিগর।
আল্লামা শায়খ জিয়া উদ্দীন আজ একটি নাম নয়।বরং বিশাল একটি বটবৃক্ষ। যার ছায়ায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য প্রতিষ্টান। যার নেতৃত্বে সফলতায় পরিপুর্ণ হয়ে অনেক দ্বীনি অান্দোলন। যার সোহবতে উজ্জিবীব হয়েছে একটি সোনালী কাফেলা। যে নামের উসিলায় আলোকিত হয়েছে একটি সমাজ। যে নামের ফয়জে ধন্য হয়েছে একটি অঞ্চল। যে নামের সাথে মিলে আছে একটি অাদর্শবাহী সংগঠনের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। যে নামের বদৌলতে তৈরি হয়েছে একঝাক সমাজ সংস্কারক। যে নামের চৌকস নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে একদল সমাজ সেবক। যে নামের শাসনে প্রস্ফুটিত হয়েছে দ্বীনের এক নিখুত কাফেলা।
সত্যিই স্বার্থক একটি নাম জিয়া উদ্দীন। যে নামের পরশে গৌরবান্বিত হয়েছে বিয়ানীবাজার সহ গোটা সিলেটবাসী। উপকৃত হয়েছে বৃহত্তর সিলেটসহ গোটাজাতি। ফায়দামন্দ হয়েছে বিশ্বের বিভিন্নস্থানে বসবাসরত বাঙ্গালি। সর্বোপরি বিশ্ব মুসলিমের একটি বিরাট অংশ তার প্রজ্ঞা, সুচিন্তা, কর্ম, ফয়েজ ও বারাকাত দ্বারা ধন্য হচ্ছে । নামেই যেন সেই রুশনী বিদ্যমান। জিয়া শব্দটির অর্থের সাথে যেন অপুর্ব সমাহার। কুরআনে কারিমে সুর্যের আলোকে জিয়া বলা হয়েছে। যেমন চন্দ্রের আলোকে নুর। মুফাস্সিরিনে কেরামের ভাষ্যমতে যে আলো নিজস্ব ও জ্যুতির্ময় তাকেই জিয়া বলে। চন্দ্রের নিজস্ব কোন আলো নেই, সে সুর্য থেকে রশ্মি সংগ্রহ করে আলো দেয়। আল্লামা জিয়াউদ্দীন দা: বা যেন একটি সুর্য। যেখান থেকে সবধরনের মানুষ উপকৃত হচ্ছে। তার আলোয় আলোকিত সমাজ, রাষ্ট্র ও দেশ। যেন তিনি এ জাতির এক আলোকবর্তিকা।
তার বিশাল কর্মময় জীবনকে কাগজের পাতায় ফুটিয়ে তুলার কাজ নিশ্চয়ই দু:স্বাধ্য। সেই দু:স্বাধ্য কে সাধ্যে নিয়ে অাসার উদ্দোগ যারা নিয়েছেন তারা সত্যিই সৎসাহসী ও ভাগ্যবান। এখানে তার কর্মময় জীবনের একটি অংশ “জনগনের জন্য রাজনীতি ও আল্লামা শায়খ জিয়া উদ্দীন” সম্পর্কে সামান্য কয়েকটি কথা তুলে ধরার চেষ্টা করছি।
মানুষকে আল্লাহ সৃস্টি করেছেন তার গোলামীর জন্য। বাকী সমস্থ প্রাণী সৃষ্টি করেছেন মানুষের গোলামীর জন্য। পৃথিবীর সকল নেয়ামতের মালিক মানবজাতি। সেই নেয়ামত পেয়ে রবের সন্তুষ্টি হাসিলের উদ্দেশ্যে যাদের জীবন হয় উৎসর্গিত তারাই হলেন ভাগ্যবান। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস সেই ভাগ্যবানের একজন হলেন আল্লামা শায়খ জিয়া উদ্দীন। যিনি প্রভুর সন্তুষ্টি লাভে তার জীবনকে উজার করে দিচ্ছেন। নিজের জীবন যৌবন এ’লায়ে কালিমাতুল্লার জন্য বিলীন করে যাচ্ছেন। ইসলামী রাজনীতির এক কিংবদন্তি হিসাবে সিপাহসালারের ভুমিকা পালন করছেন।
প্রভুর সন্তুষ্টি তার সৃষ্টিশীল প্রাণীর মধ্যে নিহিত। মানুষের সেবার মধ্যে রয়েছে মহান প্রভুর রেজামন্দী। তাদের সুখ দুংখে কাছে দাড়ানোর শিক্ষা রয়েছে তার জীবনে। জনগনকে ভালবাসতে হলে প্রথমে তার কাছে যেতে হবে। তাদের সমস্যা ও সম্ভাবনা অনুধাবন করতে হবে। প্রয়োজনে তাদের পাশে দাড়িয়ে সহযোগিতায় হাত বাড়াতে হবে। আর জনগনের কাছে পৌছার সবচাইতে কার্যক্রর পদ্ধতি হচ্ছে রাজনীতি। সবার বড় যে নীতি তার নাম রাজনীতি। আল্লামা শায়খ জিয়া উদ্দীন রাজনীতির ময়দানে একজন অাদর্শ পুরুষ। জনগনের মনজয় করতে, কাউকে নিজের প্রতি অাকৃষ্ট করতে তার জুড়ি নেই। তার ক্যারিশমেটিক নেতৃত্ব বৃহত্তর সিলেটসহ গোটা বাংলাদেশে প্রশংসিত। তৃণমুল থেকে নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন। উদার নেতৃত্ব ও সম্মোহনী যোগ্যতার ফলে সিলেটের সর্বশ্রেণীর কাছে তিনি একজন পতিকৃত ব্যক্তি। বহুমুখী প্রতিভার মাধ্যমে তিনি জনগনের মনিকোটায় স্থান করে নিয়েছেন। তার সুযোগ্য নেতৃত্বে জমিয়তকে একটি গণমুখী সংগঠনে পরিনত করেছেন।
বিগত উপজেলা নির্বাচনে তার দিকনির্দেশনায় বৃহত্তর সিলেটে একটি গণজাগরণ সৃষ্টি হয়। সিলেটসহ বিভাগের কয়েকটি উপজেলায় জমিয়ত প্রার্থীরা চমক সৃষ্টি করে। এভাবে তিনি বৃহত্তর সিলেটের শুধু অালেমদের নয় বরং সর্বস্থরের জনগণের কাছে একজন প্রিয়নেতার অাসন অলংকৃত করেছেন।
বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে আজ ৪৩ বছর। এই বিশাল সময়ে উলামায়ে কেরাম তথা কওমীপন্থীদের ইতিহাস অত্যন্থ সমৃদ্ধ। এদেশের মানুষের ঈমান আকিদা সংরক্ষণে সবচাইতে অগ্রণী ভুমিকা পালন করে যাচ্ছেন তারা। ইসলামি শিক্ষা ও তার সম্প্রচারে একমাত্র অবধান কওমীপন্থি উলামাদের। কিন্তু নির্বাচনের ময়দানে এসব আলেমদের ইতিহাস নিয়ামক স্মরূপ। নিজস্ব বলয় নিয়ে এ মাঠে তাদের বিচরণ নগণ্যই বলা যায়। দীর্ঘ সময়ের ইতিহাসে মুহাম্মদুল্লাহ হাফিজ্জি হজুরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনই উল্লেখ করার মত ঘটনা। জাতীয় নির্বাচনে মোটামোটি উপস্থিতি ও অংশগ্রহন থাকলেও স্থানীয় নির্বাচনের ইতিহাস অত্যন্ত করুণ। সারাদেশে উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদে কওমীপন্থি আলেমদের বিচরণ নাই বললেই চলে। সেই ইতিহাসকে ছাইচাপা দিয়ে জমিয়তকে জনগণের দলে পরিনত করেছেন তিনি। যাদের চিন্থা চেতনায় আলেমরা আজ জনগনের নেতৃত্বে আসীন হচ্ছেন তাদের মধ্যে সবচাইতে অগ্রনি ভুমিকা পালন করে যাচ্ছেন যারা তাদের অন্যতম রাহবার ও পথপ্রদর্শক আল্লামা শায়খ জিয়া উদ্দীন দা:বা:। দেশের শীর্ষস্থানিয় উলামা-মাশায়েখদের নেতৃত্বে পরিচালিত শতাব্দির প্রাচীনতম সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম। বৃটিশ বিরোধী অান্দোলন থেকে নিয়ে এদেশের সকল অান্দোলন সংগ্রামে জমিয়তের রয়েছে সর্নোজ্জল ইতিহাস। সেই সোনালী কাফেলার একজন অাদর্শ নাবিক আল্লামা শায়খ জিয়া উদ্দীন। স্বাধীন বাংলাদেশে জমিয়তের সাথে তার সম্পর্ক একদম প্যারালাল। জমিয়তের একজন নিবেদিত পুরোধা হিসাবে অাজীবন তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।
জণগনের সাথে জমিয়তের সম্পর্ক সর্বদাই নিবিড়। এদেশের মানুষের ঈমান অাকিদা সংরক্ষণে জমিয়ত নেতৃবৃন্দ স্থানে স্থানে মসজিদ, মাদরাসা ও খানকাহ তৈরি করেছেন। জনগণের সহযোগিতায় সুষ্ট ও সুন্দর সমাজ বিনির্মানে ভুমিকা পালন করে আসছেন। কিন্তু নির্বাচনী মাঠে তাদের অংশগ্রহন খুবই সীমিত। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় সম্পুর্ন ভিন্ন পরিস্থতি। জাতীয় নির্বাচনে ২/৪ জন প্রার্থী বিজয়ী হলেও স্থানীয় নির্বাচনের ফলাফল শুন্যের কোটায়। দীর্ঘদিনের সেই শুন্যতাকে কিছুটা হলেও এবার পুরণ করতে স্বক্ষম হয়েছে। তাৎক্ষনিক ভাবে ঘোষিত উপজেলা নির্বাচনে আংশিক হলেও চমক দেখিয়েছে জমিয়ত । এবারে সিলেট বিভাগে ১৩ জন ভাইস চেয়াম্যান প্রার্থী দিয়ে জমিয়ত আলোড়ন সৃষ্টি করতে স্বক্ষম হয়। এর মধ্যে তিনজন বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে জনগণের কাছে পৌছে যান। যাদের সুনির্দিষ্ট নেতৃত্ব ও তত্বাবধানে জমিয়তের সেই শুন্যতা পুরণ হয়েছে তাদের মধ্যে অন্যতম ব্যক্তি হলেন আল্লামা শায়খ জিয়া উদ্দীন।
১ম দফার নির্বাচনে বৃহত্তর সিলেটে জমিয়তের ৪ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেন। জকিগঞ্জ উপজেলায় মাওলানা বিলাল আহমদ ইমরান হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে সামান্য ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। যিনি তার দক্ষ ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত জামেয়া মাদানিয়া অাঙ্গুরা মুহাম্মদপুরের মুহাদ্দিস। জৈন্তাপুর উপজেলা থেকে হাফিজ কবির আহমদ, গোয়াইনঘাট থেকে মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক ও দক্ষিন সুনামগঞ্জ উপজেলা থেকে আমি। (মাওলানা তৈয়্যিবুর রহমান চৌধরী), বালাগঞ্জ উপজেলায় মাওলানা মুখতার হোসাইন ও সুনামগঞ্জ সদরে হাফিজ ফেদাউর রহমান, দক্ষিন সুরমা উপজেলায় মাওলানা হাফিজ শরিফ আহমদ শাহান, জামালগঞ্জ উপজেলায় হাফিজ রশিদ আহম, বিশ্বম্ভরপুরে আ.হ.ম ফখরুদ্দীন, কানাইঘাটে মাওলানা আলিম উদ্দীন, সিলেট সদরে মাওলানা হেলাল আহমদ, বিয়ানীবাজারে মুফতি শিব্বির আহমদ, রাজনগরে মাওলানা শরিফ খালেদ সাইফুল্লাহ। তন্মধ্যে দক্ষিন সুনামগঞ্জে আমি, বিয়ানীবাজারে মুফতি শিব্বর আহমদ, জামালগঞ্জে রশিদ আহমদ বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। এর মধ্যে মুফতি শিব্বির নাযিমে অাঙ্গুরার সরাসরী ছাত্র ও শিষ্য। তার প্রজ্ঞা ও বিশাল ব্যক্তিত্বের ফলেই মুফতি শিব্বির ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এ ছাড়া সিলেট বিভাগেন সকল প্রার্থীর পক্ষে আল্লামা জিয়া উদ্দীনের ছাত্র ভক্তদের ভুমিকা ছিলো অতুলনীয়। নিজে তদারকি করে ছাত্রদের নির্বাচনী এলাকায় প্রেরণ করেন। উল্লেখ্য যে জমিয়তের পরাজিত প্রার্থীরা সবাই সম্মানজনক ভোট টানতে সক্ষম হয়েছেন।
সর্বোপরি সিলেটে যে জমিয়তের শক্তিশালি ঘাটি সেটি নির্বাচনের মাধ্যমে আবারো প্রমানিত হয়।
এমনকি সারাদেশের মধ্যে সবচাইতে ইসলামের উর্বর ভুমি এই সিলেট। শায়খুল আরবে ওয়াল আজম হযরত হোসাইন আহমদ মদনী রহ. এর সোহবতেই এ মাটি আধ্যাত্মিক রাজধানীর খেতাবে ভুষিত। উপজেলা নির্বাচনে কওমীপন্থি দল হিসাবে এ বিজয়ে আজ বিভিন্ন দলথেকে শীর্ষস্থানীয় উলামা মাশায়েখ আবারো জমিয়তের ব্যানারে শামিল হচ্ছেন। এসবের পেছনে যার অবধান প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ তিনি হলেন আল্লামা শায়খ জিয়া উদ্দীন।
আমরা বিশ্বাস করি সিলেটের মাটিতে ইসলামকে বিজয়ী করতে তার মত ব্যক্তিত্বের বিকল্প নেই। রাজনীতির মাঠে তার অসাধারন প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতায় আজ সিলেটে তৈরি হয়েছে হাজারো যুবক। যারা জীবনবাজি রেখে ইসলাম ও ইসলামি রাজনীতিকে এগিয়ে নিতে বদ্ধ পরিকর। বৃহত্তর সিলেটে জমিয়তের উর্বর মাটিকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করতে হবে মদীনার রাজপ্রসাদ। আগামীতে প্রতিটি নির্বাচনে আল্লামা জিয়া উদ্দীনরা যে ফ্যক্টর হয়ে উঠছে সেকথা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। তাই আসুন জমিয়তের ছায়াতলে। একটি সুখি সমৃদ্ধশালী রাষ্ট গঠনে জমিয়তের হাতকে আরো শক্তিশালি করি। আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা তিনি যেন আল্লামা শায়খ জিয়া উদ্দীনকে সুস্থতা ও অাফিয়াতে সাথে রাখেন। তার কর্মের মধ্যে বড়পুর বরকত দান করেন। আমাদেরকে তার পদাংক অনুসরন করার তৌফিক দান করেন।

লেখক: ভাইস চেয়ারম্যান দক্ষিন সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদ, সুনামগঞ্জ।

22

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *