মসজিদ খুলে দেয়ায় সরকারকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে মোবারকবাদ: আল্লামা বাবুনগরী

বাংলাদেশ

 

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, তারাবি ও জুমার ও এতেকাফ জন্য মসজিদ খুলে দেয়ায় সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে মোবারকবাদ জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও হাটহাজারী মাদরাসার সহযোগী পরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

আজ বুধবার সন্ধ্যায় সংবাদ মাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে আল্লামা বাবুনগরী বলেন, মসজিদ মহান আল্লাহ তায়ালার ঘর। পরকালের বাজার, বেহেশতের বাগান। রহমত, বরকতের পবিত্রময় স্থান। পৃথিবীর সর্বোৎকৃষ্ট শান্তি ও নিরাপত্তার জায়গা মসজিদ। মুসলমান মসজিদে গেলে প্রশান্তি লাভ করে। কোন অবস্থাতেই মসজিদ বন্ধ রাখা যায় না।

করোনা ভাইরাসের কারণে মসজিদ বন্ধের বিষয়টি আলোচনায় আসার পর থেকেই আমি মসজিদ খোলা রাখার কথা বলে আসছিলাম। স্বাস্থ্য সচেতনতা বজায় রেখে সুস্থ ব্যক্তিদের জন্য মসজিদ খোলা রাখা ও জুমার নামাযের জন্য দাবি জানিয়ে এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে আমি একাধিক বিবৃতিও দিয়েছিলাম। অবশেষে দীর্ঘদিন মসজিদ বন্ধ থাকার পর উন্মুক্ত করে দেয়ায় সরকার, ধর্ম মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আমি আন্তরিক মোবারকবাদ ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।

আল্লামা বাবুনগরী আরও বলেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, তারাবি ও জুমার জন্য যেভাবে মসজিদ উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে আমরা সরকারের নিকট আশা করবো ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সাথে ঈদের নামাজ পড়ার জন্য আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরে জাতীয় ঈদগাহসহ দেশের সকল ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায়ের সু-ব্যবস্থা করে দেবেন।

তিনি বলেন, হাদীস শরীফে আছে, হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন আজাব-গযব দেখলে সাথে সাথে মসজিদে যেতেন। করোনা ভাইরাসের এই নাজুক পরিস্থিতিতে আমাদেরও উচিত বেশি বেশি মসজিদে গিয়ে আল্লাহর তায়ালার নিকট কায়মনোবাক্যে দোয়া কান্নাকাটি করে এই গজব থেকে পানাহ চাওয়া। এখন থেকে নিয়মিত পাঞ্জেগানা, জুমা ও তারাবিতে আমরা উপস্থিত হবো।

আল্লামা বাবুনগরী আরও বলেন, পবিত্র কুরআনের সঙ্গে রমজানের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। এ মাসে কুরআনের চর্চা হয়, তেলাওয়াত হয় এবং দেশের হাজার মসজিদে তারাবি নামাজে কুরআন খতম করা হয়। পবিত্র কুরআনের আলোকে জীবন গঠনের একটা প্রশিক্ষণ হয় মাহে রমজানে। তারাবির নামাজে কুরআনুল কারীমের তেলাওয়াতের যেই পরিবেশ রমজান মাসে হয়, তা বছর জুড়ে হয় না। করোনা ভাইরাসে কারণে মসজিদ বন্ধ থাকায় যেসব মসজিদে সুরা তারাবি বা খতমে তারাবির আয়োজন করা হয়নি রমজানের এই বাকি দিনগুলোতে সেখানে তারাবির আয়োজন করে রমজান মাস ইবাদাত বন্দেগীর মধ্যে কাটানো চাই। তারাবি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ।

হাদীস শরীফে আছে, হযরত আবূ হুরায়রা (রাদি.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি রমজানে ঈমানের সাথে সওয়াব লাভের আশায় তারাবীর নামাজ পড়বে তার পূর্ববর্তী গোনাহ সমূহ মাফ করে দেয়া হবে।

তিনি বলেন, মাহে রমজানে আল্লাহ তায়ালার রহমতের দ্বার উন্মুক্ত হয়। এ মাসে বেশি বেশি ইবাদাত করতে হবে। রমজানের অন্যতম একটি ইবাদাত এতেকাফ। এতেকাফ সম্পর্কে হাদীসের কিতাব কানযুল উম্মালে আছে, যে ব্যক্তি মাহে রমজানের (শেষ) দশ দিনের এতেকাফ পালন করবে, তার এই আমল (সওয়াবের ক্ষেত্রে) দুই হজ্জ এবং দুই ওমরার সমতূল্য হবে।

‘তাই হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম পুণ্যের রজনী শবে কদরের তালাশে রমজানের শেষ দশকে আমাদের এতেকাফের এহতেমাম করতে হবে। রমজানের রোজা,তারাবীর নামাযে কুরআন তিলাওয়াত, এতেকাফ,জুমা ইত্যাদির বরকতে করোনা ভাইরাসসহ যাবতীয় বালা-মুসিবত দূর হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।’

16

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *