আসুন সামাজিক ব্যাধি ইফতারিকে না বলি : চেয়ারম্যান মামুনুর রশীদ মামুন

Uncategorized

দর্পণ ডেস্ক : পবিত্র রমজান মাস আমাদের মুসলমানদের জন্য একটি মহিমান্বিত মাস। সিয়াম সাধনার মধ্যে দিয়ে তাক্বওয়া অর্জনের গুরুত্বপূর্ন মাস মাহে রমজান। আল্লাহর রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- “যে ব্যক্তি রমজান মাস পেলো আর তার গুনাহ মাফ করাতে পারলোনা তাহার মত বদ নসীব আর কারো নেই”।

পবিত্র এই রমজান মাসে যুগ যুগ ধরে আমাদের সমাজে ‘ইফতারি’ নামক একটি প্রথা চলমান। মেয়ের বাড়ি থেকে গাড়ি ভর্তি জিলাপি- নিমকি আর বাহারী সামগ্রীর পসরা নিয়ে ছেলের বাড়িতে দেয়া। এই ইফতারি দেয়ার ফলে খাদ্য সামগ্রী প্রতিবেশীকে বন্টন করার পরেও দেখা যায় দুই/তিন ধরে ঘরে বা ঘরের আশেপাশে ময়লার স্তুপে স্থান পাচ্ছে এসব দামী ইফতারি পন্য। যা চরম পর্যায়ের অপচয়। অথচ বিশ্বনবী (সঃ) এর আরেকটি হাদিসে আছে- অপচয়কারী শয়তানের ভাই। এটি গেলো অপচয়ের বিষয়। অন্যদিকে বিত্তবানগণ নাম ডাকের জানান দিতে গাড়ি ভর্তি করে এলাকায় জানান দিয়ে মেয়ের বাড়িতে ইফতারি দিতে পারলেও গরীব, মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্ত পরিবার মেয়ের বাড়িতে এই কুপ্রথার ইফতারির ব্যবস্থা করতে গিয়ে সীমাহীন আর্থিক মানসিক ভাবে ভোগান্তির শিকার হন। শ্বশুর বাড়ির লোকের কাছে কেবল নিজের মেয়ের মুখকে উজ্জ্বল রাখতে অবর্ননীয় আর্থিক কষ্টকে বুকে চেপে ইফতারি দিতে বাধ্য হন। এর অনুভুতি কেবল সেই মানুষই জানে যারা এমন দুঃসহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন।
সামাজিক ভাবে চলে আসা এই রেওয়াজটি যেন আজ অঘোষিত আইনসিদ্ধ এক প্রথায় পরিণত হয়েছে। অথচ আমাদের পবিত্র ধর্ম ইসলামে এই প্রথার কোন ভিত্তিই নেই।
তাই আসুন, আমাদের প্রিয় আলীনগর ইউনিয়ন জনপদে আমরা এই ইফতারি প্রথাকে না বলি। আপনারা অবগত আছেন আমাদের ইউনিয়নকে অনেক আগেই আরেকটি সামাজিক ব্যাধি “বাল্যবিবাহ” মুক্ত হিসেবে ঘোষনা করা হয়েছে। এবার আমার প্রিয় ইউনিয়নবাসীর প্রতি আহবান সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টার ফসল হিসেবে আমরা “ইফতারি” মুক্ত ইউনিয়ন হিসেবে ঘোষনা করতে সক্ষম হবো। তাই আসুন সকলে সচেতন হই, সোচ্চার হই সমাজে চলমান কুপ্রথা ইফতারিকে না বলি।
আল্লাহ পবিত্র রমজান মাসের রহমত, বরকত ও ফজিলত দিয়ে আমাদের সকলে পরিপূর্ণ করে দিন। সেই সাথে রমজানের মহিমায় সকলকে তাক্বওয়া অর্জনের পথ সুগম করে দিন। আমিন।

12

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *