রমজান মাসে ইবাদত, তিলাওয়াত ও দান-সদক্বায় অধিক হারে সম্পৃক্ত হোন: আল্লামা কাসেমী

বাংলাদেশ সিলেট

রমজান মাসে ইবাদত, তিলাওয়াত ও দান-সদক্বায় অধিক হারে সম্পৃক্ত হোন:

আল্লামা কাসেমী

দর্পণ ডেস্কঃ পবিত্র রমজানে রোজা পালনের পাশাপাশি অধিক হারে ইবাদত-বন্দেগী ও সৎকর্মে আত্মনিয়োগ এবং যাবতীয় গুনাহ পরিত্যাগের সংকল্পের জন্য সর্বস্তরের মুসলমানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশে’র মহাসচিব শায়খুল হাদীস আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী।

আজ (২৬ এপ্রিল) রোববার এক বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, মুসলমানদের জন্য পবিত্র রমজান মাস অত্যন্ত গুরুত্ববহ ও মর্যাদাশীল মাস। রমজান রহমত, বরকত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। এই মাসে রোযা, নামায, কুরআন তিলাওয়াত, যিকির ও দান-সদক্বা’সহ সকল ইবাদতের সাওয়াব অন্যান্য মাসের তুলনায় বহুগুণে বৃদ্ধি করা হয়। হিংসা-বিদ্বেষ, হানাহানি, আত্মঅহংবোধ ভুলে গিয়ে সুখী, সুন্দর, সহনশীল ও সমৃদ্ধিশালী সমাজ প্রতিষ্ঠার মাস হচ্ছে রমজান মাস। মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য রমজান মাস হচ্ছে অনাবিল আনন্দের। এ আনন্দ হচ্ছে পূর্ণ মাস রোজা রাখা এবং অধিক ইবাদত, দান-সাদক্বা, লাইলাতুল ক্বদর ও ইতিকাফের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের আনন্দ। তিনি বলেন, রমজান মাস ভোগবিলাসিতা ও অপচয়ের গড্ডালিকা প্রবাহ থেকে দূরে থাকার শিক্ষা দেয়। আত্মসংযমের মাধ্যমে ঈমানদারগণ যাতে দৈহিক ও আত্মিক দিক থেকে সর্বশক্তিমান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে নিয়োজিত হয়, সে উদ্দেশ্যে এ মাসে ঈমানদারগণ ইবাদতে অধিক উদ্বুদ্ধ হয় এবং গুনাহ পরিত্যাগ করে মহান আল্লাহর সান্নিধ্য লাভে প্রয়াসী হয়।

আল্লামা কাসেমী বলেন, রমজানের অন্যান্য শিক্ষা হচ্ছে সামাজিক দায়বদ্ধতা, পারিবারিক দৃঢ়বন্ধন, রাষ্ট্রীয় সুবিচার, ন্যায়পরায়ণতা, ভ্রাতৃত্ব, বন্ধুত্ব, আত্মার সম্পর্ক বৃদ্ধি করা। শোষণ, নিষ্পেষণ, হঠকারিতা, জুলুম ও অত্যাচার থেকে দূরে থাকা। রমজান রোজাদারদের ইবাদত-বন্দেগির ভেতর দিয়ে অন্যায়-অত্যাচার, অশোভন-অনাচার, দূরাচার-পাপাচার ও যাবতীয় অকল্যাণকর কাজকর্ম থেকে বিরত হয়ে সংযম সাধনার পথ ধরে মহান আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণের শিক্ষা দেয়। তিনি বলেন, রমজানের অপর নাম হচ্ছে তাকওয়া অর্জনের মাস। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের নিয়্যাতে সব ধরনের গুনাহ থেকে দূরে থাকা এবং ইবাদত ও সৎকর্মে মনোনিবেশের নামই তাকওয়া। আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের একমাত্র উপায় এই তাকওয়া। সুতরাং যাবতীয় অন্যায় কাজ থেকে বিরত থেকে ভালো কাজ করতে পারলেই আমাদের জন্য মাহে রমজান সফল ও সার্থক হবে। ঈমান ও আত্মবিশ্লেষণের সঙ্গে রোজা রাখলে সব গুনাহ মাফ হয়ে যায়। আর এ শিক্ষা যদি বাকি ১১ মাস কাজে লাগানো যায়, তবে পৃথিবীতে কোন অশান্তি, অনাচার ও জুলুম থাকবে না।

জমিয়ত মহাসচিব বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের মানুষও বর্তমানে করোনা মহামারির দুর্যোগে আক্রান্ত। নিঃসন্দেহে এটা সমগ্র মানবজাতির জন্য বড় এক বিপদ। কুরআন-হাদীসের ভাষ্যমতে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত পাপ এবং অপরাধমূলক কর্মকা- ব্যাপকতর হয়ে পড়লে এ ধরনের মহামারির বিপদ নেমে আসে। সুতরাং এই মহামারি থেকে মুক্তি পেতে মাহে রমজান আমাদের জন্য বড় এক সুযোগ বয়ে এনেছে। উপরে যেভাবে বলেছি, আমরা সকলে যদি জীবনকে এভাবে সাজাতে পারি, ইনশাআল্লাহ করোনাভাইরাসের এই মহামারির মুসিবত এই রহমতের মাসেই আল্লাহ তুলে নিবেন আশা করা যায়। জমিয়ত মহাসচিব মহামারির এই দুর্যোপূর্ণ সময়ে সমর্থবানদেরকে গরীব-দু:খী ও এতিমদের মাঝে উদার হস্তে দান-সদক্বা ও সার্বিক সহযোগিতার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, রমজানে বান্দার দান-সদক্বার সাওয়াব অন্যান্য মাসের তুলনায় সহ¯্রগুণ বৃদ্ধির কথা হাদীসে এসেছে। দান-সদক্বার মাধ্যমে বিপদাপদ ও বালা-মুসিবত দূরিভূত হয়। সুতরাং করোনা মহামারির বিপদ থেকে উদ্ধার ও অধিক নেক অর্জনের নিয়তে বর্তমান দু:সময়ে সমর্থবান প্রতিটি মুসলমানকে গরীব-দু:খীদের পাশে দাঁড়ানোর গুরুত্ব অপরিসীম।

14

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *