পিছিয়ে যাচ্ছে টোকিও অলিম্পিক

খেলার খবর

করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে টোকিও অলিম্পিকের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল। জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে দৃঢ়তার সঙ্গে বলে আসছিলেন যে নির্ধারিত সময়ে, অর্থাৎ ২৪ জুলাই শুরু হতে যাওয়া গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সময়সূচিতে কোনো রকম রদবদল হবে না। তাঁর প্রশাসন অলিম্পিকের আয়োজন করতে বদ্ধপরিকর।

জাপান সরকারের সঙ্গে সুর মিলিয়ে একই কথা বলছিল আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি আইওসি এবং টোকিও অলিম্পিকের আয়োজক কমিটি। অলিম্পিকের আয়োজন ঠিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার নিদর্শন হিসেবে ১৯ মার্চ নির্ধারিত সময়ে বিশেষ একটি বিমানে করে অলিম্পিক শিখা গ্রিস থেকে জাপানে নিয়ে আসা হয়। আগামী বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে অলিম্পিকের মশাল দৌড় শুরুর প্রস্তুতি হিসেবে ফুকুশিমা জেলায় সব রকম আয়োজন এখন চূড়ান্ত করা হয়েছিল।

তবে জাপান সরকারের দৃঢ় অবস্থান সত্ত্বেও দেশটির নাগরিক সমাজ করোনাভাইরাস সংকট চলাকালে অলিম্পিকের আয়োজন নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে ক্রমেই আরও বেশি সন্দেহ প্রকাশ করে আসছিল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অলিম্পিক কমিটিও অলিম্পিকের আয়োজন স্থগিত করার জন্য আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির ওপর চাপ দিয়ে যাচ্ছিল।

এ রকম বহুমুখী চাপের সামনে নতি স্বীকার করে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শেষ পর্যন্ত আজ সোমবার পার্লামেন্টের অধিবেশনে বলেছেন, করোনাভাইরাস মহামারির উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হবে না। ফলে অলিম্পিক স্থগিত ঘোষিত হওয়া এখন প্রায় নিশ্চিত। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি আইওসির প্রেসিডেন্ট টমাস বাখের সঙ্গে কথা বলবেন। সব দেশের অলিম্পিকে অংশগ্রহণের পরিপূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আবে বলেন, তিনি মনে করেন না বর্তমান পরিস্থিতিতে তা সম্ভব।

আইওসি অবশ্য এর আগে বলেছিল, অলিম্পিক আয়োজনের একটি বিকল্প পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি পরীক্ষা করে দেখবে। সন্দেহ নেই জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আজকের মন্তব্য আইওসিকে এখন সেই পথে অগ্রসর হতে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করবে। ফলে ধরে নেওয়া যায়, জুলাই মাসে টোকিওতে অলিম্পিকের আয়োজন বসছে না। তবে কবে নাগাদ অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হতে পারে, সেটাও এই মুহূর্তে নিশ্চিত নয়।

জাপান সরকার, আইওসি এবং টোকিও অলিম্পিকের আয়োজক কমিটি এই প্রশ্নে একমত হতে পারেনি। তবে একটি বিষয়ে সব পক্ষ অভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করছে। তা হলো, অলিম্পিক বাতিল হয়ে যাওয়া নয়, বরং স্থগিত ঘোষণা করা উচিত। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির পক্ষ থেকে খুব শিগগির সে রকম ঘোষণা আসার প্রত্যাশা এখন করছে জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অলিম্পিক কমিটি।

আগামী দিনগুলোতে করোনা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার অগ্রগতি সূচিত হলে সব পক্ষের সম্মতিতে অলিম্পিকের নতুন তারিখ সম্ভবত দ্রুত নির্ধারণ করা হবে। তবে তা আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না জাপানের সংবাদমাধ্যম। কেননা, করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চীনের পাশাপাশি জাপান আংশিকভাবে সফল হলেও করোনাভাইরাস এখন মহামারির আকারে দ্রুত বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে।

ফলে এ রকম সম্ভাবনাও রয়েছে যে ২০২০ সালের অলিম্পিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এ বছর অনুষ্ঠিত না হয়ে এক বছর পর, অর্থাৎ ২০২১ সালে তা অনুষ্ঠিত হতে পারে। আর সে রকম কিছু হলে সেটা হবে অলিম্পিকের ইতিহাসে প্রথম।

23

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *